Categories


মনোপাখি

সময়টা সন্ধ্যাকালের আগে। একটু আগেই এক পশলা বৃষ্টি পড়েছে। আকাশ জুড়ে কালো মেঘের আনাগোনা। নদীর ওদিকটায় দেবী বিসর্জন চলছে। দূর থেকে ভেসে আসছে ঢাকের ধ্বনি। নদীর এদিকটায় এমনিতেও কেউ আসে না। নদীর পানির সাথে আউলা বাতাসের কানাকানিতে চারিদিকে যেন এক অপার্থিব পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। রাধিকার মাথা হতে রুপু আশীর্বাদের হাত সরায়। রাধিকার কাজল টানা চোখ রুপুর চোখে নিবদ্ধ। তার ঠোঁট কাঁপে, বিড়বিড় করে সে রুপুকে কিছু বলে, গুড়গুড় মেঘের ডাকে সে কথা আর শোনা যায় না। আবারও বৃষ্টি নামবে। চোখ বন্ধ হয়ে আসে রুপুর। সে অনুভব করে রাধিকার গায়ের মিষ্টি সুবাস তার কাছে এগিয়ে আসছে। রুপু হয়তো নিজেকে ছেড়েই দিতো কিন্তু তখনই তার চোখে ভেসে উঠে জমিদার বাড়ির দোতলার বদ্ধ ঘরের সেই মুহূর্তগুলোর স্মৃতি। সজোরে ধাক্কা দিয়ে রাধিকাকে রুপু ফেলে দেয়। মাটিতে ছিটকে পড়ে রাধিকা। গাছের গুঁড়ির সাথে বারি লেগে তার কপালের ডান পাশ কেটে রক্ত বেরোতে থাকে। রাধিকা রুপুর দিকে তাকায়। সেই চোখে কোন অভিযোগ ছিল না, ছিল কেবল একরাশ বিমূঢ়তা।


কুররাতু আইয়ুন: যে জীবন জুড়ায় নয়ন

পাঠ্যপুস্তকে আমাদের শুধু ভাল কেরানী, পুঁজিবাদের ভাল সেবক হওয়া শেখায়। যেন জীবনে চাকরগিরির ক্যারিয়ারই সব। টাকা কামানোই একমাত্র উদ্দেশ্য। বেশি বেশি বস্তু কেনাই কামিয়াবি। ভেবে দেখেন চাকরি যেমন একটা মেজর ইভেন্ট আমাদের জীবনে, বিয়েও কি একটা মেজর ইভেন্ট না? সন্তান জন্ম দেয়া এবং পালন করাও কি একটা মেজর টাস্ক নয় জীবনের? তাহলে আমাদের প্রচলিত শিক্ষা যদি ‘ভবিষ্যত জীবনের জন্য আমাদের গড়ে তোলা’রই দাবি করে, তবে ভালো চাকুরের সাথে ভালো স্বামী/ভালো বাবা/ ভালো সন্তান হবার সিলেবাস কোথায়? তার মানে ওরা আপনার সুন্দর জীবন চায় না, চায় শুধু আপনার সু্ন্দর সার্ভিসটুকু। ষাট বছর হলে ছিবড়ে ফেলে দেবে ছুঁড়ে, ব্যস। ওদের কিচ্ছু যায় আসে না, যে আপনার ছেলে মানুষ হল কি না। আপনার ডিভোর্সে ওদের কিসসু আসে যায় না। আপনি আপনার বৃদ্ধা মা-কে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠালেও ওরা দেখবে না। স্রেফ আপনার কাজ নেবার জন্যই এত আয়োজন, এতকিছু। এই বইটি আমাদের সিলেবাসের সেই অসূ্র্যম্পশ্যা অংশটুকু নিয়েই, যেগুলো কখনও আলোর মুখ দেখেনি।